
খালেদা জিয়ার আপসহীনতা না থাকলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হতো না
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান না থাকলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হতো না—এমন মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি কার্যালয়ে সংরক্ষিত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, “খালেদা জিয়ার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, সেই সময়ে তিনি যদি আপসহীনতা ও দৃঢ়তা ধরে না রাখতেন, তাহলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হতো না। পরে অনেকেই এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দাবি করেছে, কিন্তু নেতৃত্ব জনগণই দেয়। তার নীরব কিন্তু দৃঢ় লড়াই এই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ভাবমূর্তি তিনি যদি তৈরি করতে না পারতেন, নিঃসন্দেহে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্ভব হতো না। তার এই নীরব সংগ্রামের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে।”খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে ফরহাদ মজহার বলেন, “এখন আমরা কোন পথে যাব, সেটা নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নয়, জনগণের অভিপ্রায়কে সামনে রেখে আলাপ-আলোচনা হওয়া জরুরি। আশা করি বিএনপি জনগণের সঙ্গে কথা বলবে।”
বিএনপির ওপর বড় দায়িত্ব এসে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান—ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে সামাল দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিএনপির ওপর গুরুদায়িত্ব বর্তেছে। আশা করি দলীয় নেতৃত্ব তা সঠিকভাবে পালন করবে।”ফরহাদ মজহার বলেন, “খালেদা জিয়া শুধু দলের ভেতরে বসে সিদ্ধান্ত নিতেন না। সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে তিনি কথা বলতেন, পরামর্শ নিতেন। এই ধরনের অসাধারণ নেতৃত্ব আমরা আবার পাব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”