জ্বালানির দাম এখন ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলার

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলারে ওঠার পর এই প্রতিবেদন লেখার সময় তা ১২৫ ডলারে নেমে আসে। ২০০৮ সালের পর এটাই জ্বালানির সর্বোচ্চ দাম। আবার ঠিক এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এবার তারা অন্যান্য দেশে রুশ তেল সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। যুদ্ধের আগেই ধারণা করা হচ্ছিল, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পেরিয়ে যাবে। সেই আশঙ্কা সত্যি করে এবার জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলারে উঠল।

 

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের দেশে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। এর জেরে গত বছরের ৩ নভেম্বর দেশেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটারে ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে সেদিন।

বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে এই সংকটের ছায়া পড়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানির প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জে দিনের শুরুতে সূচক ৪ শতাংশ কমেছে, আর ওদিকে লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক কমেছে ২ শতাংশের বেশি। ইউরোপের বাজারের প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। জাপানের নিক্কি সূচক প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে আর হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পড়েছে।

এদিকে অনিশ্চয়তার সময় মানুষ সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম খোঁজে—এটাই মানব প্রকৃতি। এমন সময়ে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এখনো তা–ই হচ্ছে। ফলে ১৮ মাসের মাসের মধ্যে এই প্রথম স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি দুই হাজার ডলার ছুঁয়েছে।

 

এদিকে গত রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, বাইডেন প্রশাসন ও তার মিত্ররা রাশিয়ার তেল সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করছে।
এরপর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, রাশিয়ার তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার জন্য জুতসই আইনের খোঁজ করা হচ্ছে। শুধু তা–ই নয়, এ সপ্তাহে কংগ্রেস রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার কোটি ডলারের সহায়তার তহবিল অনুমোদনের চেষ্টা করছে।

এক চিঠিতে পেলোসি আরও বলেছেন, হাউস এই মুহূর্তে রাশিয়াকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে শক্তিশালী আইনের খোঁজ করছে।
হোয়াইট হাউস এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলেন পেলোসি।

পুনরুদ্ধার পিছিয়ে পড়েছে

দুই বছর ধরে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। করোনা রুখতে যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে, তার জেরে বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই কয়েক বছর পিছিয়ে দিয়েছে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আর এবার শুরু হয়েছে যুদ্ধ, যা আগামী দিনে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়বে কি না, সেই উদ্বেগও আছে।

এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ বলছে, যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে। তবে উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের মানুষেরাই বেশি বিপাকে পড়বেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে শুধু জ্বালানি ও খাদ্যের চাহিদা বেশি তা-ই নয়, এর পেছনে খরচও বেশি। যেমন, পৃথিবীতে গড়ে চাহিদার ৩০ শতাংশ হলো জ্বালানি ও খাদ্য, সেখানে আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ, যার অনেকটাই আমদানি করতে হয়। আবার উন্নত দেশগুলোতে মোট খরচের ১০ শতাংশ হয় এই দুইয়ের পেছনে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা ২৫ শতাংশ ও কম আয়ের দেশগুলোতে ৫০ শতাংশ।

মানুষের ব্যয় বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। তখন ব্যয় কমাতে তারা ভোগ কমায়—এটাই রীতি। আর তাতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আবার পিছিয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.