• Home
  • জাতীয়
  • এক সপ্তাহের ব্যবধানে জামিন পেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপি এবং তিন প্রভাবশালী আওয়ামী নেতা, পুনর্বাসন নিয়ে আতংকে মানুষ
জাতীয়

এক সপ্তাহের ব্যবধানে জামিন পেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপি এবং তিন প্রভাবশালী আওয়ামী নেতা, পুনর্বাসন নিয়ে আতংকে মানুষ

Email :3

মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে বরিশালে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্য। শুধু এই দুজনই নন, গত এক সপ্তাহে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতিসহ অন্তত তিনজন প্রভাবশালী নেতা বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আরও অন্তত ডজনখানেক নেতা জামিন পেয়েছেন। এ নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের দাবি, আদালত আইন অনুযায়ীই জামিন দিচ্ছেন। তবে ৫ আগস্টের পর নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের অভিযোগ, জামিন অযোগ্য ধারার মামলাতেও আপত্তি সত্ত্বেও আসামিদের জামিন দেওয়া হচ্ছে। বিচারকের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করার সুযোগ না থাকায় তারা এ বিষয়ে কিছু করতে পারছেন না। জেলা বিএনপির নেতাদের মতে, এভাবে নির্বিচারে জামিন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে এবং বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা জরুরি।সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তউল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি আসামি। একই মামলায় সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীরসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা অভিযুক্ত। সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট থেকে পলাতক থাকা ইউনুস হঠাৎ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়।মহানগর ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এবং আইনজীবী সমিতির নেতারা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তারা যুক্তি দেন, মামলাটিতে জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে এবং এটি প্রথম শুনানি। তবুও শুনানি শেষে বিচারক ইউনুসকে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন।ইউনুসের আইনজীবী অ্যাড. কাইয়ুম খান কায়সার দাবি করেন, ২০১৮ সালের একটি ঘটনায় ২০২৪ সালে মামলা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনায় আদালত আইনসম্মতভাবেই জামিন দিয়েছেন। তবে এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, মামলাটিতে জামিন অযোগ্য ধারা থাকলেও আদালত আপত্তি আমলে নেননি। পাশাপাশি ইউনুসের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার তথ্য আদালতে উপস্থাপন বা গ্রেফতারের আবেদন না করায় পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন।এর আগে, ছয় দিন আগে বরিশাল-৫ আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজও আদালত থেকে জামিন পান। একই দিনে তার সঙ্গে জামিন পান যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকলেও ধারাবাহিকভাবে জামিন পেয়ে সেদিনই কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা।বরিশাল জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. হাফিজ আহম্মেদ বাবলু বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা সহজেই জামিন পাচ্ছেন, যাদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এতে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং আইন কর্মকর্তাদের আপত্তিও উপেক্ষিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।মেট্রোপলিটন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ পান্না বলেন, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এমন কয়েকজনকে জামিন দিয়েছেন, যাদের আবেদন মহানগর দায়রা জজ আগে নামঞ্জুর করেছিলেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাতিজা মঈন আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ করেন। তার মতে, উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হলে বিচারব্যবস্থার শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আবুল কালাম শাহিন বলেন, নতুন সরকার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এই সুযোগে একটি গোষ্ঠী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জামিন পাইয়ে দিচ্ছে বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে এবং দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts