• Home
  • জাতীয়
  • সালামি পাওয়ার আনন্দ ও দেওয়ার তৃপ্তি, ফিরে দেখা শৈশবের ঈদ
জাতীয়

সালামি পাওয়ার আনন্দ ও দেওয়ার তৃপ্তি, ফিরে দেখা শৈশবের ঈদ

Email :9

ঈদ শব্দটি কানে আসতেই সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে নতুন পোশাক পরে আব্বুর হাত ধরে ঈদগাহে যাওয়ার সেই দৃশ্য। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আসে এক অদ্ভুত পরিবর্তন নিয়ে। ঈদের দিন জাত-পাতের সব ভেদাভেদ ভুলে যখন আমরা একসাথে নামাজ পড়ি আর সবার ঘরে গিয়ে মিষ্টিমুখ করি, তখন সম্প্রীতি আর ঐক্যের এক দারুণ শিক্ষা আমাদের মনে গেঁথে যায়।

আমার ছোটবেলার ঈদ ছিল ভীষণ আনন্দময়। দিনটির জন্য আমরা সারা বছর উন্মুখ হয়ে থাকতাম। বন্ধুদের সাথে মিলে চাঁদ দেখার জন্য সেই হইহুল্লোড় আর মিছিল করার স্মৃতি আজও ভোলার নয়। বাসায় ফিরে দেখতাম মা-বোনেরা রান্নাবান্নার ব্যস্ততায় মগ্ন, পাড়ার মেয়েরা ছোট আপুর কাছে আসছে মেহেদি পরতে। পরদিন ভোরে মায়ের হাতের সেমাই খেয়ে নতুন পোশাকে ঈদগাহে যাওয়ার সেই মুহূর্তগুলো আজও মনের কোণে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির ছোঁয়া আমাদের ঈদের ধরনেও বদল এনেছে। আগে আমরা চাঁদ দেখার জন্য মাঠের দিকে দৌড়াতাম, এখনকার ছেলেমেয়েরা টিভি বা অনলাইনেই সেই আনুষ্ঠানিকতা সেরে নেয়। মানুষ এখন অনেক বেশি ভার্চুয়াল হয়ে গেছে দাওয়াত দেওয়া থেকে শুরু করে আনন্দ ভাগ করা, সব চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে যোগাযোগ সহজ হলেও মানুষ যেন কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। আগের সেই সামাজিক সম্প্রীতির মাঝে যে স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল, তা যেন এখন কিছুটা ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

ছোটবেলায় বড়দের কাছ থেকে সালামি পাওয়ার যে রোমাঞ্চ ছিল, তার কোনো তুলনা হয় না। পকেটে টাকা রাখা আর বন্ধুদের সাথে কার কত হলো তার হিসাব কষার মধ্যে অন্যরকম এক উত্তেজনা কাজ করত। সালামির টাকা দিয়ে মেলা থেকে খেলনা কেনা ছিল আমাদের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। এখন বড় হয়েছি, ভাগনে-ভাগনিদের সালামি দিতে হয়। ওদের হাসিমুখের মাঝে আমি নিজের শৈশবের সেই হারানো আনন্দটুকুই খুঁজে পাই।পরিবার, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সাথে একত্রিত হওয়ার মাঝেই ঈদের সার্থকতা। আমি সাধারণত আত্মীয়দের বাসায় যাই, তাদের দাওয়াত দিই এবং বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ করি। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার পরামর্শ ঈদের এই সুন্দর সময়কে প্রাণভরে উপভোগ করো। কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্বও বাড়বে, তখন হয়তো আনন্দ করার ধরন ও সুযোগ দুটোই বদলে যাবে।ঈদ মানে কেবল উৎসব নয়, ঈদ মানে নিজেকে শুদ্ধ করা। পুরো রমজান আমাদের যে আত্মমূল্যবোধ ও সৌহার্দ্যরে শিক্ষা দেয়, তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটুক আমাদের জীবনে। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকাই হোক আমাদের ঈদের মূল লক্ষ্য।

লেখক: মাহবুব হুসাইন, শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts